রাসুল (সা.)-এর জীবনের বড় বড় পাঁচটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ

রাসুল (সা.)-এর জীবনের বড় বড় চারটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ/ অভিযান নিয়ে আলোচনা করা হবে। এখানে চারটি ঐতিহাসিক যুদ্ধ/ অভিযানের ফলাফল, কারন ইত্যাদি এখানে ২টি পর্ব আকারে প্রকাশ করা হবে।

বদরের যুদ্ধ

দ্বিতীয় হিজরী সালে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কাছে খবর আসে, কুরাইশদের একটি বাণিজ্যিক কাফেলা সিরিয়া হতে মক্কার পথে অগ্রসর হচ্ছে। কাফেলার নেতৃত্বে ছিল আবু সুফিয়ান। হযরত মুহাম্মদ (সা.) কাফেলাটির পিছু ধাওয়া করার আহ্বান জানালেন। তবে এর জন্য তিনি বিশেষ প্রস্তুতি গ্রহণ করেননি। দ্রুত বের হওয়ার জন্য তিনি বেশি সময় পাননি, তাই তিনি ১১৩ জন সাহাবী নিয়ে বের হয়ে পড়েন। তাদের সঙ্গে ছিল ২টি ঘোড়া এবং ৭০টি উট। সাহাবীরা পালাক্রমে আরোহন করতেন।

অন্যদিকে আবু সুফিয়ান, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বের হওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত মক্কায় লোক পাঠিয়ে সাহায্য চাইলেন। সংবাদ পেয়ে কুরাইশরা ১ হাজার সশস্ত্র যোদ্ধা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে, সঙ্গে ছিল ১০০টি ঘোড়া ও ৭০০টি উট।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) যখন কুরাইশদের প্রস্তুতির কথা জানতে পারেন, তখন সাহাবীদের সঙ্গে পরামর্শ করেন। প্রথমে মুহাজিরগণ কথা বলেন। দ্বিতীয়বারও মুহাজিরগণই কথা বলেন। তৃতীয়বার যখন তিনি পরামর্শ চান, তখন আনসারগণ বুঝতে পারেন যে, হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাদের উদ্দেশ্য করছেন। তখন সা’দ বিন মুআয (রা.) উঠে দাঁড়িয়ে আনসারদের পক্ষ থেকে বলেন:

“হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সম্ভবত আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। সেই আল্লাহর কসম, যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে—আপনি যদি আমাদেরকে ঘোড়া ছুটিয়ে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে বলেন, তাহলে আমরা তাই করব। আপনি যেদিকে যেতে বলবেন, আমরা সেদিকেই যাব। এমনকি বারাকুল গামাদ পর্যন্ত যেতে বললেও আমরা পিছপা হব না।”

মিকদাদ বিন আসওয়াদ (রা.)-ও বলেন, “হযরত মুসা (আঃ)-এর অনুসারীরা যেমন বলেছিল, আমরা তেমন বলব না। তারা বলেছিল, ‘তুমি ও তোমার প্রভু গিয়ে যুদ্ধ কর, আমরা এখানেই বসে থাকব।’ আর আমরা বলছি: আমরা আপনার ডান, বাম, সামনে এবং পেছন থেকে যুদ্ধ করব।”

এই সাহসী কথা শুনে হযরত মুহাম্মদ (সা.) অত্যন্ত খুশি হন। তিনি বলেন, “তাহলে সামনে চলো এবং সুসংবাদ গ্রহণ করো। আল্লাহ আমাকে কাফেরদের দুই দলের একটির ওপর বিজয় দেওয়ার ওয়াদা করেছেন। আমি কাফের নেতাদের নিহত হওয়ার স্থানগুলো দেখতে পাচ্ছি।”

২য় হিজরির ১৭ই রমজান, মদিনা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দূরে মুসলিম ও কুরাইশরা প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়। মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.), আর কুরাইশ বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন ইসলামবিদ্বেষী আবু জাহেল। নবুওয়াতের ১৫ বছর পর সে ১ হাজার সৈন্য নিয়ে বদরের প্রান্তরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।

এ ছিল এমন একটি যুদ্ধ, যেখানে উভয় পক্ষেই অনেক আত্মীয়-স্বজন ছিল। কিন্তু সত্য-মিথ্যার প্রশ্নে আজ তারা দুই দলে বিভক্ত। এক দল আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত, আরেক দল ইসলামের চিহ্ন মুছে ফেলতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কোনো পার্থিব স্বার্থ বা দ্বন্দ্ব নয়—শুধু সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্যই তারা অস্ত্র ধরেছে।

যুদ্ধের পূর্বে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করেন:
“হে আল্লাহ! আজ যদি এই ক্ষুদ্র বাহিনী পরাজিত হয়, তবে তোমার নাম কে তুলে ধরবে? আমি তোমার নামে তোমার সাহায্য প্রার্থনা করছি।”

যুদ্ধের শুরুতেই এক এক করে ময়দানে এগিয়ে আসে কুরাইশদের তিন বীর—উতবা, তার ভাই শায়বা, এবং তার পুত্র ওয়ালিদ। মদিনার তিনজন আনসার সাহাবী তাদের মোকাবিলার জন্য এগিয়ে আসেন। কিন্তু উতবা তাচ্ছিল্যের সুরে বলে, “তোমরা তো মদিনার কৃষক, আমরা আমাদের সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী চাই।”

তখন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নির্দেশে এগিয়ে আসেন তাঁর চাচা হামজা ইবনে আবদুল মুত্তালিব (রা.), চাচাতো ভাই আলি ইবনে আবি তালিব (রা.) এবং উবাইদা ইবনে হারিছ (রা.)। হামজা (রা.) বলেন, “এবার কি তুমি তোমার সমকক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছ?” উতবা উত্তর দেয়, “হ্যাঁ, তুমি উপযুক্ত প্রতিপক্ষ।”

এরপর হামজা (রা.) শায়বাকে, আলি (রা.) ওয়ালিদকে হত্যা করেন। উবাইদা (রা.) উতবার সঙ্গে যুদ্ধ করে আহত হন। তার সাহায্যে এগিয়ে আসেন হামজা (রা.) ও আলি (রা.) এবং উতবাকে হত্যা করেন।

তিন বীরের পতন দেখে কুরাইশ বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় প্রবল সংঘর্ষ। মাত্র ৩১৩ জন মুসলিম যোদ্ধার বিপরীতে ছিল ১ হাজার কুরাইশ সেনা।

আকাশ-বাতাস কেঁপে উঠছিল অস্ত্রের শব্দ, আহত মানুষের আর্তনাদ ও উট-ঘোড়ার চিৎকারে।

যুদ্ধের এক পর্যায়ে ইসলামের চিরশত্রু আবু জাহেল আহত হয়ে পড়ে যায় দুই কিশোর মুসলিমের হাতে। পরে তাকে হত্যা করেন হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)। মক্কায় থাকার সময় তিনিই আবু জাহেলের হাতে বারবার অপমানিত হয়েছিলেন—তাকে ‘রাখাল’ বলে গালি দিত এবং মারধর করত। আজ সেই ‘রাখাল’-এর হাতেই আবু জাহেলের পরিণতি ঘটে।

সেদিন বদরের প্রান্তরে প্রতিশোধ নেন আরেক নির্যাতিত সাহাবী, হযরত বিলাল (রা.)। তিনি নিজ হাতে হত্যা করেন এক সময়ের তার নির্যাতক মনিব, উমাইয়াকে।

আবু জাহেলের মৃত্যুতে কুরাইশ বাহিনী ভেঙে পড়ে, তারা দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে।

ওহুদের যুদ্ধ

বদরের যুদ্ধে শোচনীয় পরাজয় হয়। এই যুদ্ধে আবু জাহেলসহ মক্কার অধিকাংশ প্রবীণ ব্যক্তি নিহত হন। এরই প্রতিশোধ নিতে তৃতীয় হিজরি সালে মক্কার কুরাইশরা আবু সুফিয়ানের নেতৃত্বে ৩০০০ সৈন্য নিয়ে মদিনা অভিমুখে রওয়ানা হয়। তাদের প্রতিহত করতে সাহাবিদের সাথে পরামর্শ করে হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১০০০ সৈন্যর একটি দল নিয়ে মদিনা থেকে রওয়ানা দেন। পথিমধ্যে মুনাফিক আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বিশ্বাসঘাতকতা করে ৩০০ সৈন্যসহ সরে দাঁড়ায়। ফলে মহানবী (সা.) মাত্র ৭০০ সৈন্য নিয়ে কুরাইশদের বিশাল বাহিনীর মুখোমুখি হন। তারা মদিনার নিকটবর্তী উহুদ পাহাড়ের পাদদেশে শিবির স্থাপন করেন।

যুদ্ধের আগে

২৩ মার্চ ৬২৫ খ্রিস্টাব্দে উভয় দল সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। যুদ্ধ শুরুর আগে হযরত মুহাম্মদ (সা.) আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.)-এর নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজের একটি দলকে কানাত উপত্যকায় অবস্থিত একটি গিরিপথে প্রেরণ করেন। কারণ, কুরাইশরা যাতে মুসলিমদের পেছন থেকে হামলা করতে না পারে। হযরত মুহাম্মদ (সা.) আদেশ দিয়েছিলেন:
“তোমরা শত্রুদের প্রতি তীর নিক্ষেপ করে তাদের আমাদের কাছ থেকে দূরে রাখবে। আমরা যদি জয়লাভ করি বা পরাজিত হই, তোমরা তোমাদের অবস্থানে অবিচল থাকবে। তোমরা যেখানে অবস্থান নিয়েছ, সেদিক থেকে যেন কোনো হামলা না আসে, তা লক্ষ্য রাখবে। আমাদের পেছনের দিক তোমাদের হেফাজতে থাকবে। যদি দেখো আমরা মারা পড়েছি, তবুও আমাদের সাহায্যে এগিয়ে আসবে না; যদি দেখো আমরা গনীমতের মাল আহরণ করছি, তবুও অংশ নেবে না — যদি না আমি ডেকে না পাঠাই।”

সহীহ বোখারীতে উল্লেখিত হাদীস অনুযায়ী, তিনি বলেছিলেন:
“যদি তোমরা দেখো, আমাদেরকে পাখি ঠুকরাচ্ছে তবুও নিজের জায়গা ছাড়বে না — যদি আমি ডেকে না পাঠাই। যদি তোমরা দেখো, আমরা শত্রুদের পরাজিত করছি এবং এক সময়ে তাদের নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছি, তবুও নিজের জায়গা ছাড়বে না — যদি আমি ডেকে না পাঠাই।”

যুদ্ধের শুরু

কুরাইশদের পক্ষ হতে তালহা ইবনে আবু তালহা আবদারি দ্বন্দ্বযুদ্ধের জন্য আহ্বান করেন। এরপর হযরত আলি (রা.) এগিয়ে এসে তাকে হত্যা করেন। এটি দেখে তালহার ভাই ওসমান এগিয়ে আসে, কিন্তু হযরত হামজা (রা.) তাকেও জাহান্নামে পাঠিয়ে দেন। শুরু হয় সর্বাত্মক যুদ্ধ, কিন্তু এবারও মুসলিমদের প্রথম ধাক্কাতেই কুরাইশরা পালাতে শুরু করে। যুদ্ধ শেষ হয়েছে মনে করে গিরিপথে নিযুক্ত ৫০ জন তীরন্দাজের মধ্যে মাত্র ১২ জন ব্যতীত সবাই হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদেশ অমান্য করে গনীমতের মাল আহরণে যায়।

এই সুযোগে খালিদ ইবনে ওয়ালিদের নেতৃত্বে কিছু অশ্বারোহী মুসলিমদের পেছন থেকে হামলা চালায়। তাদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে সেই ১২ জন তীরন্দাজই শহীদ হন। এই অতর্কিত হামলায় ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে মুসলিম বাহিনী। নেমে আসে প্রচণ্ড বিপর্যয়। হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে অনেক মুসলিম সেনা পিছু হটতে বাধ্য হন। তখনও যুদ্ধের ময়দানে ছিলেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)। এক কুরাইশ সেনা তাঁর দিকে পাথর নিক্ষেপ করলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। একাধিক আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ৯ জন দেহরক্ষীর মধ্যে ৭ জন শহীদ হন। তিনি আহত অবস্থায় একটি গর্তে পড়ে যান। যুদ্ধক্ষেত্রে ছড়িয়ে পড়ে যে হযরত মুহাম্মদ (সা.) নিহত হয়েছেন। এই ভুল সংবাদ তাঁর জীবনকে শত্রুর কবল থেকে আড়াল করে রাখে। কিছুক্ষণ পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। হযরত তালহা (রা.) গুরুতর আহত হলেও হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে পাহাড়ের উপর তুলে আনেন। অন্যান্য সাহাবারাও তাঁর সেবায় ছুটে আসেন।

এই দ্বিতীয় হামলায় জুবাইর ইবনে মুতইমের হাবশি ক্রীতদাস ওয়াহশির নিক্ষিপ্ত বর্শায় শহীদ হন হযরত হামজা (রা.)।

শহীদদের অঙ্গচ্ছেদন

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর বিরুদ্ধে এটা ছিল শত্রুদের সর্বশেষ হামলা। তারা নিশ্চিতভাবে জানত না, তিনি বেঁচে আছেন কিনা। ফলে তারা শিবিরে ফিরে গিয়ে মক্কায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। এ সময়ে কিছু মুশরিক নারী-পুরুষ শহীদদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলে। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা হযরত হামজার (রা.) বুক চিরে কলিজা বের করে চিবোতে থাকেন। গিলে ফেলতে না পেরে ফেলে দেন। এছাড়া কর্তিত নাক ও কান দিয়ে মালা গেঁথে গলায় ও পায়ে অলংকারের মতো পরে।

যুদ্ধ শেষে

যুদ্ধ শেষে দেখা যায়, ওহুদের ময়দানে পড়ে আছে ৭০ জন সাহাবি। তাদের রক্তেরঞ্জিত হয়েছিল ওহুদের ময়দান। হযরত হামজা (রা.)-সহ অনেক শহীদের দেহ ক্ষতবিক্ষত ছিল। তাঁদের সবাইকে ওহুদের ময়দানেই সমাহিত করা হয়।

মুতার যুদ্ধ

হুদাইবিয়ার সন্ধির পরিবর্তে ‘মুহাম্মদ (সা.)’ বিভিন্ন জায়গার শাসকদের কাছে ইসলাম গ্রহণের জন্য অনুরোধ করে চিঠি প্ররেণ করেন। এরই অংশাবিশেষ হিসেবে ‘মুহাম্মদ (সা.)’ ‘হারেস ইবনে উমায়ের আল আযদী (রা.)’-কে একটি চিঠিসহ তৎকালীন বসরার গভর্নরের নিকট প্রেরণ করেন। তখন রোমের কায়সারের গভর্নরের পক্ষে থেকে ‘শুরাহবিল ইবনে আমর গাস্সানি’ বসরার গভর্নর হিসেবে নিযুক্ত ছিল। সে ‘মুহাম্মদ (সা.)’-এর প্রেরিত দূতকে গ্রেফতার করে হত্যা করে। সে সময় রাষ্টদূত বা সাধারণ দূত হত্যা করা ছিল জঘন্যতম অপরাধ এবং যা ছিল যুদ্ধ ঘোষণার শামিল ছিল।

‘মুহাম্মদ (সা.)’ তার প্রেরিত দূতের হত্যার খবর শোনার পর সেই এলাকায় অভিযান পরিচালানা করার জন্যে সৈন্যদের প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। নির্দেশ অনুযায়ী তিন হাজার সৈন্যের বিশাল বহর তৈরী হয়। খন্দকের যুদ্ধ ছাড়া ইতিপূর্বে অন্য কোন যুদ্ধেই মুসলিমরা এত সৈন্যের সমাবেশ করে নি।

তিনি ‘যায়েদ বিন হারেসা (রা.)’-কে এ সৈন্যদলের প্রধান সেনাপতি মনোনীত করেন। এরপর বলেন যে, “যদি ‘যায়েদ’ শহিদ হয়, তাহলে ‘জাফর’ এবং যদি ‘জাফর’ শহিদ হয়, তাহলে ‘আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা’ সেনাপ্রধান নিযুক্ত হবে। আর যদি ‘আব্দুল্লাহ’ও শহিদ হয় তাহলে তোমাদের মধ্য থেকে একজনকে সেনাপতি নিযুক্ত করবে” ।

‘মুহাম্মদ (সা.)’ মুসলিম সেনাবাহিনীর জন্যে সাদা পতাকা তৈরী করে তা ‘যায়েদ ইবনে হারেসা(রা.)-এর কাছে দেন এবং সৈন্যদলকে এ বলে ওসিয়ত করেন যে, ‘হারেস ইবনে ওমায়ে’রে হত্যাকান্ডের জায়গায় তারা যেন অবশ্যই আগে স্থানীয় লোকদের ইসলামের দাওয়াত দেয়। যদি তারা ইসলাম গ্রহণ করে, তাহলে কোনো যুদ্ধ হবে না আর তাঁরা যদি ইসলাম গ্রহণ না করে, তবে আল্লাহর কাছে সাহায্য চেয়ে তাদের সাথে যুদ্ধ করবে।

মুসলিম বাহিনী রওয়ানা হওয়ার প্রাক্কালে সাধারণ মুসলমানরা ‘মুহাম্মদ (সা.)’-এর মনোনীত সেনানায়কদের সালাম এবং বিদায় জানান।

মুসলিম সৈন্যরা যখন মাআন নামক এলাকায় পৌঁছায়। তখন গুপ্তচর এসে খবর দিলেন যে, “রোমের কায়সার বালকা অঞ্চলের মাআব এলাকায় এক লাখ রোমান সৈন্য সমাবেশ করে রেখেছে। এছাড়া তাদের পতাকাতলে লাখাম, জাজাম, বলকিন, বাহরা এবং বালা গোত্রের আরো এক লাখ সৈন্য সমবেত হয়েছিলো” ।

মুতা নামক জায়গায় উভয় দলের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। মাত্র তিন হাজার মুসলিম সৈন্য দুই লাখ অমুসলিম রোমান সৈন্যের সাথে এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। যুদ্ধে সর্বপ্রথম ‘রাসূল (সা.)’-এর প্রিয় পাত্র ‘যায়েদ (রা.)’ পতাকা গ্রহণ করেন। অসাধারণ বীরত্বের পরিচয় দিয়ে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।

‘যায়েদ (রা.)’-এর শাহাদাতের পর পতাকা তুলে নেন রাসূলের চাচাতো ভাই ‘জাফর (রা.)’। তিনিও তুলনাহীন বীরত্বের পরিচয় দিয়ে লড়াই করতে থাকেন। শত্রুদের আঘাতে আঘাতে তিনিও একসময় শহিদ হন।

‘জাফর (রা.)’-এর শাহাদাতের পর ‘আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা (রা.)’ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এরপর ‘আব্দুল্লাহ(রা.)’ বীর বিক্রমে লড়াই করতে করতে তিনিও একসময় শহিদ হন।

পর পর তিনজন সেনাপতির মৃত্যুতে মুসলিম বাহিনী নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যায় এবং দাঁড়িয়ে যায় খাদের কিনারায়।

চলবে…….