আমরা বেঁচে যে আছি, এটাই তো এক আশ্চর্য ব্যাপার। সকালে দাঁত মাজবার জন্য টুথপেস্ট নিলাম। এর মধ্যে নাকি ক্যান্সারের উপাদান। সকালের নাস্তায় একটু পরোটা খেলাম। সেটাও আবার ভেজাল তেলে ভাজা। সুন্দর দেখে একটা কলা খেলাম। তাও আবার কার্বাইড দিয়ে পাকানো। চাঙা হওয়ার জন্য এক মগ কফি নিলাম। সেটাতে নাকি কফির গুঁড়ো কম, তেঁতুল বীজের গুঁড়ো বেশি। কাঁচা বাজারে গেলাম টাটকা শাকসবজি কেনার জন্য। কিনব কী, সবই তো হাইব্রিড সার দিয়ে ফলানো? মসলা আর হলুদ গুঁড়ো নিলাম। ওতে আবার লেড আর ক্রোমাইট কেমিক্যাল মেশানো। সয়াবিন তেল দিয়ে রান্না করব। সেই তেলের অর্ধেকই নাকি পাম অয়েল মেশানো। মাছ, মুরগি খাব, কিন্তু সেগুলোকে ভেজাল পোল্ট্রি ফিড খাইয়ে বড় করা হয়। গরমের দিনে একটু তরমুজ খেতে মন চাইল। সেটা নাকি পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেট দিয়ে লাল করা। কেউ কি তার বাচ্চাকে আমলিচু খাওয়াবে? ওগুলোও তো আবার ফরমালিন দেওয়া। একটু মিষ্টি খেতে মন চাইল। জিলাপি নিলাম। সেটা নাকি পোড়া মোবিল দিয়ে মচমচে করা। ইফতারে গলা ভেজাতে একটু শরবত খাব। তাতে মেশানো হয়েছে ক্ষতিকর রং, কেমিক্যাল আর লাশের বরফ। খেজুর কিনলাম চড়া দাম দিয়ে, ধরিয়ে দিল তিন নম্বরি খেজুর। ইফতারে মজা করে মুড়ি মাখিয়ে খাব, সেই মুড়ি ইউরিয়া দিয়ে ফোলানো। সরিষার তেল দিয়ে মাখিয়ে খাব ভেবেছিলাম, সেই তেলেও তো ভেজাল। সুন্দর দেখে বড় বড় পেঁয়াজু কিনেছিলাম। খেয়ে মনে হলো বড়া খাচ্ছি। আলুর চপে আলুর নামগন্ধই তো নেই। বেগুনিতে বেগুন খুঁজে পেলাম না। সবজির চপ মুখে দিয়ে মনে হলো খড়কুটো চিবাচ্ছি। এখন প্রোটিনের জন্য একটু গরম দুধ খাওয়া দরকার। কিন্তু গাভীর পিটুইটারি গ্রন্থিতে ইনজেকশন দিয়ে নাকি অতিরিক্ত দুধ দোয়ানো হয়। তারপর আবার মেশানো হয় বালতি বালতি পানি। এত ভেজাল খাওয়ার পর দু-একটা ওষুধ না খেলে তো আবার শরীর টিকবে না। কিন্তু ওষুধ যে খাব, বেশিরভাগ ওষুধ খেলেই হয় সাইড ইফেক্ট। বাকিগুলো আবার শরীরে কাজই করে না।