ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের অবদান ও আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

আমরা যখন কোনো জুতা বিক্রেতা, মুচি বা কোনো পেশাজীবী মানুষকে দেখি, যাদের পেশাটা ছোট বলে আমাদের কাছে মনে হয়, তখন অনেকেই এদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে ডাকি। যেমন—কোনো জুতা বিক্রেতাকে দেখলে তাকে “এই জুতা” বলে ডাকা। আমাদের অনেকের কাছে যেন তারা মানুষই না। অবশ্য সবাই এমন করে না; অনেকেই আবার এদের সম্মান দিয়েও কথা বলে। কিন্তু অনেক মানুষ আছে যারা এই ক্ষুদ্র পেশাজীবী মানুষদের মানুষ হিসেবেই মনে করে না।

কিন্তু আমাদের এটা মাথায় রাখতে হবে—আমাদের অনেক কাজেই এই ক্ষুদ্র পেশাজীবীদের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। কারণ প্রতিদিনের জীবনে এমন অনেক কাজ আছে, যা আমাদের পক্ষে করা সহজ নয়। আমরা কৃষকদের নানা সময় অসম্মানের চোখে দেখি, কিন্তু প্রতিদিনের খাদ্য তাদেরই কল্যাণে আমাদের কাছে পৌঁছে। যা আমাদের অনেকের কাছেই করা সম্ভব নয়। শুধু কৃষক বা জুতা বিক্রেতা নয়—প্রায় প্রত্যেক ক্ষুদ্র পেশাজীবীকেই সমাজের কিছু কথিত শিক্ষিত ও ধনী মানুষ অসম্মান করে। যারা আবার নিজেদের সভ্য মানুষ ও সভ্য সমাজের অধিবাসী বলে মনে করে।

আধুনিক সভ্যতা নির্মাণে এই শিক্ষিত সমাজের পাশাপাশি এইসব পেশাজীবীদের অবদানও অপরিসীম।

এক কথায় বলা যায়—
“শিক্ষিত তথা নীতিনির্ধারকরা সমাজকে চালায়, কিন্তু শ্রমজীবীরা নিজের শ্রম দিয়ে সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে।”

আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে—“মানুষ হচ্ছে সৃষ্টির সেরা জীব”, মানে সমস্ত সৃষ্টির মধ্যে মানুষই শ্রেষ্ঠ।

তাই আমাদের উচিত—
সকল মানুষকে সম্মান করা, মানুষের সাথে মানুষের পার্থক্য না করা এবং কোনো ভেদাভেদ না করা।