রাসুল (সা.)-এর পর ইসলামের প্রচার-প্রসার ও ইসলামী বিধিবিধান প্রতিষ্ঠায় সাহাবিদের অবদান ছিল সর্বাধিক। এসব সাহাবিদের প্রশংসায় রাসুল (সা.) বলেছেন,
“আমার উম্মতের মধ্যে তারাই সর্বোত্তম, যাদের মাঝে আমি প্রেরিত হয়েছি।”
বিশেষ দশজন সৌভাগ্যবান সাহাবি ছিলেন, যারা তাঁদের বিশেষ আমল ও সীমাহীন ত্যাগের মাধ্যমে পার্থিব জীবনেই জান্নাতের সুসংবাদ লাভ করেছিলেন। এই সৌভাগ্যবান সাহাবিদের বলা হয় ‘আশারায়ে মুবাশশারা’।
যে ১০ জন সাহাবি দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ পেয়েছিলেন:
১. আবু বকর সিদ্দিক (রা.)
আবু বকর (রা.)-এর জন্ম ২৭ অক্টোবর ৫৭৩ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি রাশিদুন খিলাফতের প্রথম খলিফা এবং মুসলিমদের মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ ব্যক্তি। তিনি রাসুল (সা.)-এর শ্বশুর ও তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী ছিলেন। রাসুল (সা.)-এর প্রতি অতুলনীয় বিশ্বাসের জন্য তিনি ‘সিদ্দিক’ উপাধিতে ভূষিত হন। তিনি ২৩ আগস্ট ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
২. উমর ইবনে খাত্তাব (রা.)
উমর (রা.)-এর জন্ম ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি রাশিদুন খিলাফতের দ্বিতীয় খলিফা। তিনি ছিলেন ইসলামী আইনের একজন অভিজ্ঞ আইনজ্ঞ। ন্যায়ের পক্ষে দৃঢ় অবস্থানের কারণে রাসুল (সা.) তাঁকে ‘ফারুক’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই প্রথম ‘আমিরুল মুমিনিন’ উপাধি লাভ করেন। উমর (রা.) ৩ নভেম্বর ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে ৬০–৬১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৩. উসমান ইবনে আফফান (রা.)
উসমান (রা.)-এর জন্ম ৫৭৯ খ্রিষ্টাব্দে বনু উমাইয়া গোত্রে। তিনি রাশিদুন খিলাফতের তৃতীয় খলিফা। তিনি ৬৪৪–৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন এবং ‘আস-সাবিকুনাল আওয়ালুন’-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। উসমান (রা.) ১৭ জুন ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ৭৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৪. আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)
আলী (রা.)-এর জন্ম ১৫ সেপ্টেম্বর ৬০১ খ্রিষ্টাব্দে বনু হাশিম গোত্রে। তিনি রাসুল (সা.)-এর চাচাতো ভাই ও জামাতা। তিনি রাশিদুন খিলাফতের চতুর্থ খলিফা। আল্লাহর পথে তাঁর অসাধারণ সাহস, শক্তি ও অকুণ্ঠ সংগ্রামের জন্য তিনি ‘আসাদুল্লাহ’ উপাধি লাভ করেন। বদর যুদ্ধে বীরত্বের জন্য রাসুল (সা.) তাঁকে ‘জুলফিকার’ তরবারি উপহার দেন। বালকদের মধ্যে তিনিই প্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। আলী (রা.) ২৯ জানুয়ারি ৬৬১ খ্রিষ্টাব্দে ৫৯ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৫. আবু উবাইদাহ ইবনে জাররাহ (রা.)
আবু উবাইদাহ (রা.)-এর জন্ম ৫৮১ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি রাশিদুন সেনাবাহিনীর একজন বিশিষ্ট সেনাপতি ছিলেন। তিনি ৬৩৮ খ্রিষ্টাব্দে ৫৬–৫৭ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৬. সা’দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.)
সা’দ (রা.)-এর জন্ম ৫৯৫ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ১৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ করেন। পারস্য বিজয়ে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৭. আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রা.)
আবদুর রহমান (রা.)-এর জন্ম ৫৮০ খ্রিষ্টাব্দে। জাহেলি যুগে তাঁর নাম ছিল ‘আবদুল আমর’। ইসলাম গ্রহণের পর রাসুল (সা.) তাঁর নাম রাখেন ‘আবদুর রহমান’। তিনি প্রথমে আবিসিনিয়া এবং পরে মদিনায় হিজরত করেন। তিনি ৬৫২ খ্রিষ্টাব্দে ৭২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৮. যুবাইর ইবনে আওয়াম (রা.)
যুবাইর (রা.)-এর জন্ম ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। তাঁর উপাধি ছিল ‘হাওয়ারিয়্যু রাসুলিল্লাহ’। তিনি ছিলেন রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ফুফাতো ভাই। যুবাইর (রা.) ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ৬১–৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
৯. তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ (রা.)
তালহা (রা.)-এর জন্ম ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি উহুদ যুদ্ধ ও উটের যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তিনি ৬৫৬ খ্রিষ্টাব্দে ৬১–৬২ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
১০. সাঈদ ইবনে যায়দ (রা.)
সাঈদ (রা.)-এর জন্ম ৫৯৩–৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দে। তিনি ছিলেন উমর (রা.)-এর ভগ্নিপতি। ইসলাম গ্রহণের পূর্বেও তিনি পৌত্তলিকতা থেকে দূরে ছিলেন। তিনি ৬৭৩ খ্রিষ্টাব্দে ৮০ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
